রবিবার ০৮, নভেম্বর ২০২৬

রবিবার ০৮, নভেম্বর ২০২৬ -- : -- --

বেনাপোল কাস্টমসে এআরও মিজানুরের বিরুদ্ধে যাত্রী হয়রানির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম

যশোরের বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট কাস্টমস ইমিগ্রেশনের স্ক্যানিং পয়েন্টে দায়িত্ব নেওয়ার পর সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট যাত্রীদের হয়রানি ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, দেশি-বিদেশি যাত্রীদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে আটকে রেখে ব্যক্তিগত ও ভ্রমণসংক্রান্ত নানা প্রশ্ন করা হচ্ছে। এমনকি স্ক্যানিং শেষ হওয়ার পরও ব্যাগ টেনে ধরে তল্লাশি এবং অসুস্থ ও বয়স্ক যাত্রীদের সঙ্গে অসহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী কয়েকজন যাত্রী জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে কাস্টমস কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে স্ক্যানিং পয়েন্টের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ব্যাগ টেনে ধরে তল্লাশির অভিযোগ

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, কাস্টমস স্ক্যানারে ব্যাগেজ পরীক্ষার পরও কোনো কোনো যাত্রীকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হচ্ছে। এ সময় তাদের ভ্রমণের উদ্দেশ্য, ব্যক্তিগত বিষয় এবং বিদেশে যাওয়ার কারণ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয় বলে অভিযোগ।

তাদের আরও অভিযোগ, স্ক্যানিংয়ের পর সুনির্দিষ্ট কারণ না জানিয়ে কোনো কোনো যাত্রীর ব্যাগ টেনে ধরে ভেতরের মালামাল ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র বের করে টেবিলে রাখা হচ্ছে। পরে এসব সামগ্রী গুছিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও অসুস্থ, বয়স্ক কিংবা শারীরিকভাবে দুর্বল যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয় না বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন।

চিকিৎসা শেষে ফেরার সময় হয়রানির অভিযোগ

গত ২ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে ভারত থেকে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার সময় হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন বেনাপোল পোর্ট থানার ভবেরবেড় গ্রামের বাসিন্দা নুর ইসলাম।

নুর ইসলামের দাবি, ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে কাস্টমস স্ক্যানিং পয়েন্ট পার হওয়ার সময় এআরও মিজানুর রহমান তার ব্যাগ টেনে ধরেন। এরপর তাকে প্রায় এক ঘণ্টা আটকে রেখে ভারতে চিকিৎসা নেওয়ার কারণ নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন করা হয়।

নুর ইসলামের অভিযোগ, কেন তিনি ভারতে চিকিৎসা নিতে গেছেন, দেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে কি না এবং বিদেশে কেন অর্থ খরচ করেছেন—এ ধরনের প্রশ্ন করা হয়। তার দাবি, শুধু তিনি নন, আরও অনেক অসুস্থ ও সাধারণ যাত্রী একই ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে ওই সময়ের কাস্টমস স্ক্যানিং পয়েন্টের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সহকর্মীদের মধ্যেও অসন্তোষের দাবি

অভিযোগ রয়েছে, যাত্রীদের সঙ্গে কথাবার্তা ও আচরণ নিয়ে স্ক্যানিং পয়েন্টে দায়িত্ব পালনকারী কয়েকজন কাস্টমস কর্মীর মধ্যেও অসন্তোষ রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী দাবি করেছেন, মিজানুর রহমান আগে যেসব কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করেছেন, সেখানেও তার আচরণ ও কাজের ধরন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তিদের এসব বক্তব্যের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে আরও কয়েকজন যাত্রী পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে একই ধরনের হয়রানি ও মৌখিক লাঞ্ছনার অভিযোগ করেছেন বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।

অভিযোগের বিষয়ে এআরও মিজানুর রহমানের বক্তব্য জানতে গত ২ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট কাস্টমসে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।

পরে তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে।

যাত্রীসেবায় পেশাদার আচরণের দাবি

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি যাত্রী যাতায়াত করেন। চিকিৎসা, ব্যবসা ও পারিবারিক প্রয়োজনসহ বিভিন্ন কারণে সীমান্ত পার হওয়া যাত্রীদের মধ্যে অনেকেই বয়স্ক কিংবা শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকেন।

তাদের মতে, কাস্টমসের নিয়মিত তল্লাশি ও নিরাপত্তা কার্যক্রমের প্রয়োজন থাকলেও এর পাশাপাশি যাত্রীদের সঙ্গে পেশাদার, শালীন ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি।

অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে ব্যাখ্যা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

তাদের বক্তব্য, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে যাত্রীসেবার পরিবেশ আরও স্বচ্ছ, মানবিক ও জবাবদিহিমূলক করা প্রয়োজন।

Link copied!