প্রকাশিত: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
রাষ্ট্রের কর আদায় নিশ্চিত করাই যাঁর দায়িত্ব, ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেই বিপুল সম্পদের পাহাড় গড়েছেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, অবৈধ উপায়ে অর্জিত কালো টাকা আড়াল করতে নিজের বাবা-মাকেও ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ৩৬তম বিসিএস (কর) ক্যাডারের কর্মকর্তা মোসা. তানজিনা সাথীর বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে ১৪ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
এ ঘটনায় তানজিনা সাথী এবং তাঁর বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছে দুদক। দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে মামলাগুলো দায়ের করেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, অনুসন্ধান শেষে তানজিনা সাথী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মোট ১৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য-প্রমাণ মিলেছে। এর মধ্যে তানজিনা সাথীর বাবার নামে প্রায় ৭ কোটি ৮৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা এবং মায়ের নামে প্রায় ১ কোটি ৫৬ লাখ ৫৮ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদের দালিলিক প্রমাণ পায় দুদক। বাকি ৫ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ রয়েছে তানজিনা সাথীর নিজের নামে।
বাবা-মাকে ঢাল বানিয়ে সম্পদ হস্তান্তর
দুদকের এজাহার ও অনুসন্ধান প্রতিবেদন অনুযায়ী, তানজিনা সাথীর বাবা মো. মোশারফ হোসেন মল্লিক ও মা মোসা. রাণী বিলকিস বৃদ্ধ এবং তাঁদের নিজস্ব কোনো দৃশ্যমান আয়ের উৎস নেই। তবে সরকারি চাকরিতে যোগদানের প্রায় তিন বছর পর তানজিনা সাথী তাঁর বাবা-মায়ের নামে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) খোলেন। মূলত নিজের ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত অবৈধ অর্থ বৈধ দেখানোর উদ্দেশ্যে তিনি বাবা-মায়ের আয়কর নথিতে কোটি কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ প্রদর্শন করেন।
দায়েরকৃত তিন মামলার একটিতে কেবল তানজিনা সাথীকে আসামি করা হয়েছে। বাকি দুটি মামলার একটিতে তানজিনা সাথী ও তাঁর বাবা মোশারফ হোসেন মল্লিককে এবং অপরটিতে তানজিনা সাথী ও তাঁর মা রাণী বিলকিসকে আসামি করা হয়।
পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার
দুদকের অনুসন্ধানে জানা যায়, তানজিনা সাথী কর অঞ্চল-৭ এবং কর অঞ্চল-৯ (ঢাকা)-এর বিভিন্ন সার্কেলে সহকারী কর কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে করদাতাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল অঙ্কের উৎকোচ গ্রহণ করেন। ২০১৬-১৭ করবর্ষ থেকে ২০২৩-২৪ করবর্ষ পর্যন্ত তাঁর প্রদর্শিত সম্পদের বিপরীতে বৈধ আয়ের কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। এছাড়া বিসিএস পরীক্ষার আবেদনে স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন ও তথ্য গোপনের মতো অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। দুর্নীতির ব্যাপ্তি আরও গভীরে বিস্তৃত কি না, তা খতিয়ে দেখতে অধিকতর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং আসামিদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
