বৃহস্পতিবার ২৪, সেপ্টেম্বর ২০২৬

বৃহস্পতিবার ২৪, সেপ্টেম্বর ২০২৬ -- : -- --

প্রকাশ্য দিবালোকে কাইকারটেক ব্রিজের স্লাব ভেঙে রড চুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪০ পিএম

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ ও বন্দর উপজেলার সংযোগস্থলে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মিত কাইকারটেক ব্রিজের ওয়াকওয়ের স্লাব ভেঙে লোহার রড ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চুরির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের আলোতেই দুষ্কৃতকারী ও মাদকাসক্ত একটি চক্র ইট-হাতুড়ি দিয়ে ব্রিজের স্লাব ভেঙে রডসহ বিভিন্ন ধাতব সামগ্রী খুলে নিয়ে যাচ্ছে।

স্লাব ভেঙে তৈরি হওয়া গর্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত ওয়াকওয়ের কারণে ব্রিজটি এখন পথচারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যেকোনো সময় সেখানে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুতে প্রকাশ্যে সরকারি সম্পদ নষ্ট ও চুরির ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভও দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, চুরি ঠেকাতে গিয়ে বাধা দিলে অনেক সময় তাদের উল্টো হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে। চুরি হওয়া লোহার রড ও অন্যান্য সামগ্রী ভাঙাড়ির দোকানে বিক্রি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ কাইকারটেক ব্রিজ

কাইকারটেক ব্রিজটি সোনারগাঁ ও বন্দর উপজেলার মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। প্রতিদিন এই ব্রিজ দিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ চলাচল করেন। নদীঘেঁষা অবস্থানের কারণে ব্রিজটি স্থানীয়দের কাছে বিনোদন ও দর্শনীয় স্থান হিসেবেও পরিচিত।

প্রতিদিন বিকেলে দূর-দূরান্ত থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেক মানুষ ব্রিজ এলাকায় ঘুরতে আসেন। এর পাশেই রয়েছে শতবর্ষী কাইকারটেক হাট। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে হাটটি প্রতিদিনই জমজমাট থাকে।

ফলে ব্রিজের ওপর দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক পথচারী ও দর্শনার্থীর চলাচল রয়েছে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ওয়াকওয়ের স্লাব ভেঙে রড খুলে নেওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

মাদকাসক্তদের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের অভিযোগ

স্থানীয় বাসিন্দা আমান-উল্লাহ বলেন, প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ কাইকারটেক ব্রিজে ঘুরতে আসেন। অথচ মাদকাসক্তরা ইট-হাতুড়ি দিয়ে ওয়াকওয়ের স্লাব ভেঙে রড বের করে নিয়ে যাচ্ছে। পরে এসব রড ভাঙাড়ির দোকানে বিক্রি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, চুরি ঠেকাতে বাধা দিতে গেলে উল্টো হুমকি দেওয়া হয়। দ্রুত ব্রিজের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত এবং চুরির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

আরেক বাসিন্দা রিয়াজুল করিম বলেন, কাইকারটেক ব্রিজ বন্দর ও সোনারগাঁ অঞ্চলের মানুষের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। একই সঙ্গে এটি মানুষের বিনোদনেরও জায়গা। নেশার টাকা জোগাড় করতে পুরো ব্রিজকে এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

তিনি আরও বলেন, স্লাব ভেঙে যেসব গর্ত তৈরি হয়েছে, সেখানে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। পথচারীদের নিরাপত্তার জন্য দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো সংস্কার করা জরুরি।

সড়ক ও জনপথের ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস

সরকারি সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, বিষয়টি আগে তার জানা ছিল না। দ্রুত সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে ব্রিজটি পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি বলেন, সরকারি সম্পদ বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের ভাষ্য, লিখিত অভিযোগ নেই

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল বারিক বলেন, কাইকারটেক ব্রিজের যন্ত্রাংশ চুরির বিষয়ে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

তিনি বলেন, এলাকায় বিভিন্ন সময় মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হচ্ছে। ব্রিজের যন্ত্রাংশ চুরির সঙ্গে কারা জড়িত, তা শনাক্ত করে তাদের আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এলাকাবাসীর দাবি, ব্রিজের ক্ষতিগ্রস্ত ওয়াকওয়ে দ্রুত সংস্কারের পাশাপাশি দিনের বেলায় প্রকাশ্যে স্লাব ভেঙে সরকারি সম্পদ চুরির অভিযোগের তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে ব্রিজ এলাকায় নজরদারি বাড়িয়ে পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Link copied!