প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৩ পিএম
প্রবাসে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন স্বামী, আর দেশে বসে পরকীয়ার নোংরা খেলায় মত্ত স্ত্রী! কেবল পরকীয়াতেই থেমে থাকেননি, সুযোগ বুঝে স্বামীর জমানো বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুটে নিয়ে প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়েছেন এক প্রবাসীর স্ত্রী। অপরাধের বিষয়ে জানতে চাইলে উল্টো সাংবাদিকদের চরম অকথ্য ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালিগালাজ করেছেন এই বেপরোয়া নারী।
চাঞ্চল্যকর এই প্রতারণার ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের উত্তর খলাপাড়া গ্রামে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রবাসীদের কষ্টার্জিত সম্পদ নিয়ে স্ত্রীদের এমন প্রতারণার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, অতি সম্প্রতি ফেনী, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর ও লক্ষ্মীপুরসহ দেশের নানা প্রান্ত থেকে প্রায়শই প্রবাসীর টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে স্ত্রীর উধাও হওয়ার খবর উঠে আসছে। এর মাঝেই এবার কালীগঞ্জে সিঙ্গাপুর প্রবাসী মো. ইব্রাহিমের সাথে ঘটল চরম বিশ্বাসঘাতকতার এই ঘটনা।
জানা যায়, উত্তর খলাপাড়া গ্রামের মৃত আ. বাতেনের ছোট ছেলে ইব্রাহিমের সাথে কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদি থানার পূর্ব কটিয়াদির নজরুল ইসলামের মেয়ে আরজিনা ইসলাম স্মৃতির পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল।
প্রাপ্ত সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ২০ জুন অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাড়ি ছাড়েন আরজিনা। ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায়, একটি সাদা রঙের নোয়া মাইক্রোবাস আগে থেকেই গলির রাস্তায় অপেক্ষা করছিল। এরপর ওই নারী সন্তান কোলে নিয়ে, হাতে ব্যাগ ঝুলিয়ে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বাড়ি থেকে বের হয়ে ওই মাইক্রোবাসে উঠে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যান।
ভুক্তভোগী প্রবাসী স্বামী ইব্রাহিমের অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই আরজিনা জঘন্য পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। প্রবাস থেকে স্বামী এই অনৈতিক সম্পর্কের কথা জেনে স্ত্রীকে বাধা দিলে, স্ত্রী উল্টো তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতেন এবং বাড়িঘর পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়ার হুমকি দিতেন।
পালিয়ে যাওয়ার দিন এই প্রতারক নারী স্বামীর তিল তিল করে জমানো সম্পদ থেকে ১টি স্বর্ণের ভারী হার, ৩টি স্বর্ণের চেইন, ২ জোড়া কানের দুল এবং ২টি স্বর্ণের হাতের আংটি চুরি করে নিয়ে যান। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এই বিশ্বাসঘাতক স্ত্রীর কারণে তাদের নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার মিলিয়ে প্রায় ১৮ লক্ষ টাকার অপূরণীয় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
এই দুঃসাহসিক চুরির বিষয়ে সত্যতা যাচাই ও অভিযুক্তের বক্তব্য জানতে কয়েকজন সংবাদকর্মী আরজিনার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেন। ফোন ধরে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পরই তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে উল্টো চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ শুরু করেন। ধারণকৃত অডিও রেকর্ডে শোনা যায়, তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে এমন জঘন্য, বস্তাপচা ও অশ্রাব্য ভাষায় (প্রকাশের অযোগ্য) গালিগালাজ করছেন, যা যেকোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষের জন্য চরম মানহানিকর। নিজের অপরাধ ঢাকতে তিনি সাংবাদিকদের মা-বাপ তুলে গালি দেন এবং চরম দম্ভের সাথে দেখে নেওয়ার হুমকি প্রদান করেন। তার এই আচরণ প্রমাণ করে তিনি কতটা বেপরোয়া ও অপরাধপ্রবণ মানসিকতার অধিকারী।
ছেলের সর্বনাশে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন ইব্রাহিমের বয়োবৃদ্ধ মা। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, আমার ছেলে বিদেশে রক্ত পানি করে টাকা রোজগার করে স্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছিল। সে আমার ছেলের সংসার তো ভাঙলই, উল্টো এত টাকার সম্পদ নিয়ে পালাল। এখন ফোন করলে আবার সাংবাদিকদেরও মা-বাপ তুলে গালাগাল করছে। প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার ও ছেলের কষ্টার্জিত সম্পদ উদ্ধারের দাবি জানাই। এ ঘটনায় তিনি গত ২০ জুন কালীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে বাহাদুরসাদী ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ইব্রাহিম অত্যন্ত পরিশ্রমী একজন মানুষ। বিদেশে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে সে পরিবারের জন্য টাকা পাঠাত। দিনের আলোতে তার স্ত্রীর এভাবে সম্পদ লুটে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকার মানুষ হতবাক। এই বিশ্বাসঘাতকতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।
কালীগঞ্জ থানায় দায়ের করা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, প্রবাসীর মায়ের দেওয়া একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ, অডিও রেকর্ড ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ পুলিশের হাতে এসেছে। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত নারী যেখানেই লুকিয়ে থাকুক না কেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত তাকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধার সাথে এমন চরম প্রতারণা কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়। স্থানীয় এলাকাবাসী অবিলম্বে এই পলাতক ও চোর স্ত্রীকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসন এই বেপরোয়া নারীর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।
