বৃহস্পতিবার ২৪, সেপ্টেম্বর ২০২৬

বৃহস্পতিবার ২৪, সেপ্টেম্বর ২০২৬ -- : -- --

যুক্তরাষ্ট্রের গমে বাড়তি ব্যয় ৬৭২ কোটি টাকা, চুক্তির বাধ্যবাধকতায় বেশি দামে আমদানি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৮ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের সংকট, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় বেশি দামে গম আমদানি করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। বিকল্প উৎস কিংবা খোলাবাজারের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম কিনতে টনপ্রতি প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ ডলার বেশি ব্যয় হচ্ছে।

চলতি অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৮ লাখ টন গম আমদানির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে অন্তত ৫ কোটি ২০ লাখ থেকে ৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৬২৪ কোটি থেকে ৬৭২ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, আন্তর্জাতিক বাজারে তুলনামূলক কম দামে গম কেনার সুযোগ থাকলেও চুক্তির বাধ্যবাধকতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গম আমদানি করতে হচ্ছে। এমনকি সাম্প্রতিক উন্মুক্ত দরপত্রে পাওয়া সর্বনিম্ন দর বিবেচনায় নিলেও ৮ লাখ টন গম আমদানিতে অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ কমপক্ষে ৩২৭ কোটি টাকা হতে পারে।

চুক্তির আওতায় ৮ লাখ টন গম আমদানি

চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর আগে খাদ্য মন্ত্রণালয় ‘ইউএস উইট অ্যাসোসিয়েটস’-এর সঙ্গে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমঝোতা স্মারক সই করে। এতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে যুক্ত রয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনাল’।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ওই সমঝোতার ধারাবাহিকতায় গত অর্থবছরের মতো চলতি অর্থবছরেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৮ লাখ টন গম কেনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে বাংলাদেশের।

বিশ্ববাজারে গমের দামে বড় ব্যবধান

আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া ও কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল থেকে গমের ফ্রি-অন-বোর্ড বা এফওবি মূল্য বর্তমানে টনপ্রতি প্রায় ২২০ থেকে ২৪০ ডলার। পরিবহন ব্যয়সহ বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর এই গমের দাম দাঁড়ায় প্রায় ২৭০ থেকে ২৯০ ডলার।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক হার্ড রেড উইন্টার গমের দাম টনপ্রতি ২৭০ থেকে ৩১০ ডলারের বেশি। এর সঙ্গে দীর্ঘ দূরত্বের জাহাজভাড়া, বীমা ও পরিবহন ব্যয় যোগ হওয়ায় বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর মার্কিন গমের দাম প্রায় ৩৩০ থেকে ৩৬০ ডলারে দাঁড়াচ্ছে।

ফলে রাশিয়া ও কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল থেকে আমদানি করা গমের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের গমে টনপ্রতি প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের হিসাব।

পরিবহনেও বাড়ছে ব্যয়

শুধু গমের মূল্যের ব্যবধান নয়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানির ক্ষেত্রে দীর্ঘ পরিবহন সময়ও ব্যয় বাড়াচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, রাশিয়া বা কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল থেকে বাংলাদেশে গমের চালান পৌঁছাতে প্রায় ১৫ দিন সময় লাগে। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গমের চালান বাংলাদেশে পৌঁছাতে প্রায় ৫৫ দিন সময় প্রয়োজন হয়।

দীর্ঘ সমুদ্রপথের কারণে জাহাজভাড়া, বীমা ও অন্যান্য পরিবহন ব্যয়ও তুলনামূলক বেশি পড়ছে। এতে আমদানি করা গমের চূড়ান্ত ব্যয় আরও বাড়ছে।

চুক্তি নিয়ে অর্থনীতিবিদের প্রশ্ন

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম এই চুক্তির সমালোচনা করে বলেছেন, চুক্তির কারণে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নির্ধারিত দামে গম কিনতে বাধ্য হচ্ছে। তার ভাষ্য, গমের মূল্য নিয়ে বাংলাদেশের প্রশ্ন তোলার সুযোগ সীমিত এবং যুক্তরাষ্ট্র যে দাম নির্ধারণ করবে, সেই দামেই গম কেনার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এটি বাণিজ্যিক সুবিধার চুক্তির চেয়ে রাজনৈতিক চাপের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ওপর চাপ সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হয়েছে এই চুক্তির মাধ্যমে এবং এটি দুই দেশের মধ্যে অসম বাণিজ্যিক সম্পর্কের উদাহরণ।

তবে গম আমদানির এই ব্যবস্থার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এবং চুক্তির পূর্ণাঙ্গ আর্থিক শর্ত জানা গেলে অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।

চলতি অর্থবছরে ৮ লাখ টন গম আমদানির হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের গমের তুলনামূলক বেশি দামের কারণে বাংলাদেশের অতিরিক্ত ব্যয় ৬২৪ কোটি থেকে ৬৭২ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। ফলে খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি গম আমদানির এই চুক্তি সরকারি ব্যয়ের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

উপরের তথ্য দিয়ে প্রদত্ত ছবির মত একটা ইনফোগ্রাফিক চিত্র তৈরি করে দাও। হুবহু কপি করবে না। নিজের মত করে বানিয়ে দাও।

Link copied!