বৃহস্পতিবার ২৪, সেপ্টেম্বর ২০২৬

বৃহস্পতিবার ২৪, সেপ্টেম্বর ২০২৬ -- : -- --

শনিআখড়ায় চিহ্নিত ভূমিদস্যু আসলামের চাঞ্চল্যকর উত্থান: নেপথ্যে সিন্ডিকেট ও কোটি টাকার দখল বাণিজ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২১ পিএম

ফুটপাত ও বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভাঙারি মালামাল কুড়াতেন যিনি, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় রাতারাতি তিনি এখন কোটি টাকার ভূমিদস্যু। বলছি শনিআখড়া ও কদমতলী এলাকার আলোচিত-সমালোচিত 'ভূমিদস্যু আসলাম'-এর কথা। সম্প্রতি শনিআখড়ায় এক রহস্যজনক গোলাগুলির ঘটনায় আহত হওয়ার পর আসলামকে নিয়ে এলাকায় চরম চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টার মাঝেই সোশ্যাল মিডিয়া ও স্থানীয় সূত্র থেকে বেরিয়ে এসেছে তার সাম্রাজ্য গড়ে তোলার চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

​ভাঙারি বিক্রেতা থেকে ভয়াল সিন্ডিকেট:

স্থানীয়দের তথ্যমতে, আসলাম একসময় বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভাঙারি মালামাল কিনে দোকানে বিক্রি করতেন। তবে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাতারাতি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গড়ে তোলেন এক বিশাল ভূমিদস্যু বাহিনী। তার এই সিন্ডিকেটে রয়েছে প্রায় ২৮ থেকে ৩০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল। অভিযোগ রয়েছে—অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা, আইনজীবী ও বিচার বিভাগীয় কতিপয় অসাধু ব্যক্তিসহ একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীকে সাথে নিয়ে জাল দলিল তৈরি এবং একতরফা রায় এনে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের জমি আত্মসাৎ করে আসছিলেন আসলাম।

​ভয়ভীতি ও তিন শতকের বাসাবাড়ি উচ্ছেদ:

সম্প্রতি আসলাম সিন্ডিকেটের নির্মম শিকার হয়েছে বেশ কয়েকটি পরিবার। অভিযোগ রয়েছে, গত এক মাসের মধ্যে তারা মাতুয়াইল হাসপাতালের সামনে, কদমতলী থানার সম্মুখে এবং কলেজ রোডে তিনটি বসতবাড়ি জোরপূর্বক বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। যেখানে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ৩০ থেকে ৫০ বছর ধরে বসবাস করে আসছিল। জমিগুলো দখলের পর আসলাম ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী ভুয়া কাগজপত্র ও পুলিশের ভয় দেখিয়ে অসহায় পরিবারগুলোকে উচ্ছেদ করে।

​কোটি টাকার ভাগবাটোয়ারা ও রাজনৈতিক আঁতাত:

অনুসন্ধানে জানা যায়, কেবল নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দল নয়, জমি দখলের এই বাণিজ্যে স্থানীয় বিএনপি নেতা, ভাড়াটে গুন্ডা ও অসাধু প্রশাসনের একটি বড় অংশ মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে আসলামকে সহায়তা করে আসছিল। সাম্প্রতিক দখলের পর প্রায় ৩ কোটি টাকার এক বিশাল ভাগবাটোয়ারা হয়।

​প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী টাকা ভাগের বিবরণ:

​কমিশনার মীর হোসেন মীরু: ১ কোটি টাকা

​তারা মিয়ার ছেলে 'কালা স্বপন': ৫০ লাখ টাকা

​আবু নাছের: ২০ লাখ টাকা

​পলাশ: ১০ লাখ টাকা

​'কালা জুয়েল': ৫ লাখ টাকা

​ফলওয়ালা কামরুল: ৫ লাখ টাকা

​অবশিষ্ট অর্থ উচ্ছেদ অভিযানে যুক্ত অসাধু ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রশাসনিক সহায়তাকারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

​সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত বার্তায় আসলাম ও তার সহযোগীদের অপকর্মের বিষয়টি এখন শনিআখড়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকার প্রধান আলোচনার বিষয়। দীর্ঘদিন জুলুম-অত্যাচার সহ্য করা স্থানীয় সাধারণ মানুষ এখন এই সংঘবদ্ধ ভূমিদস্যু সিন্ডিকেটের সমূল উৎপাটন এবং আসলাম সহ তার সহযোগীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Link copied!