রবিবার ০৯, আগস্ট ২০২৬

রবিবার ০৯, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে একসঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ জুন ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম

ঢাকা: বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, খাদ্যপণ্যের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং শিল্প খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে কৃষিপণ্য, সার, ভোজ্যতেল, ডাল, ছোলা, চিনি, ইউরিয়া এবং পাটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

​আজ সোমবার (২৯ জুন, ২০২৬) শিল্প মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠকে মিলিত হন ট্রেডিং কর্পোরেশন অব পাকিস্তান (টিসিপি)-এর চেয়ারম্যান আসিম আজিম সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারসহ দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

​বাণিজ্য সহজীকরণে নতুন পদক্ষেপ

​বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দুই দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা জরুরি। সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে পারলে নতুন নতুন বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার বাণিজ্য সহজীকরণ, শিল্পায়ন এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যা দুই দেশের বাণিজ্য প্রসারে বড় ভূমিকা রাখবে।

​আমদানিতে পাকিস্তানের আগ্রহ ও বাংলাদেশের পাট রপ্তানি

​পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের প্রধান আসিম আজিম সিদ্দিকী জানান, পাকিস্তান বাংলাদেশে চাল, ডাল, ছোলা, সার ও ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য রপ্তানি করতে অত্যন্ত আগ্রহী। একই সঙ্গে পাকিস্তানের বাজারে বাংলাদেশের উচ্চমানের পাট ও পাটজাত পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

​চূড়ান্ত পর্যায়ে টিসিবি-টিসিপি চুক্তি (MoU)

​সরকারি পর্যায়ে খাদ্যপণ্যের বাণিজ্য আরও সহজ করতে বাংলাদেশের টিসিবি (Trading Corporation of Bangladesh) এবং পাকিস্তানের টিসিপি (Trading Corporation of Pakistan)-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (Moইউ) চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আগামী জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহেই এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে বৈঠকে আশা প্রকাশ করা হয়।

​এছাড়া, যেসব পণ্য সরাসরি রপ্তানি করা সম্ভব নয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করার প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান। তবে এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা অনুসরণ করেই পরিচালিত হবে।

​দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বাংলাদেশ-পাকিস্তান যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ-এর কার্যক্রম দ্রুত সক্রিয় করা এবং নিয়মিত ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বিনিময়ের বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেছে।

Link copied!