বৃহস্পতিবার ২৪, সেপ্টেম্বর ২০২৬

বৃহস্পতিবার ২৪, সেপ্টেম্বর ২০২৬ -- : -- --

আওয়ামী লীগে মীরজাফরের ভূমিকায় নানক: ভারপ্রাপ্ত সভাপতির লোভে শেখ হাসিনার সঙ্গে চরম বেইমানি!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে এবার চরম বিশ্বাসঘাতক বা মীরজাফরের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। দলের এই ক্রান্তিলগ্নে নিজ দলের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেই তিনি গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। মূলত শেখ হাসিনার অবর্তমানে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির পদটি জোরপূর্বক বাগিয়ে নেওয়ার হীন উদ্দেশ্যেই নানক এই বেইমানি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রাপ্ত তথ্য ও সুখবর ডটকম-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ষড়যন্ত্রে নানকের প্রধান দোসর হিসেবে রয়েছেন চব্বিশের খন্দকার মোশতাক খ্যাত দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। দলের ভেতরে এই দুই নেতা এখন ঘাতক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

মীরজাফরের ভূমিকায় নানকের ষড়যন্ত্র:
জানা গেছে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভারতের দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পূর্বনির্ধারিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দলের ভেতরে মীরজাফরের মতো ঘাপটি মেরে থাকা জাহাঙ্গীর কবির নানক এই বৈঠকটি বানচালের ছক কষেন। তার ইন্ধনেই আগের দিন বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ঢাকা ও দিল্লির কয়েকটি নির্দিষ্ট অনলাইন সংবাদমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয় যে, শেখ হাসিনার বৈঠকটি বাতিল বা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বেইমানির নেপথ্যে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির লোভ:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নানকের এই বিশ্বাসঘাতকতার মূল কারণ হলো ক্ষমতার লোভ। ভয়ংকর দুর্নীতিবাজ হিসেবে পরিচিত নানকের ওপর দলের সভাপতি শেখ হাসিনা চরম ক্ষুব্ধ, এমনটাই জানতে পেরেছেন নানক। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, শেখ হাসিনার অবর্তমানে তিনি কোনোভাবেই দলের সম্ভাব্য ভারপ্রাপ্ত সভাপতির পদটি পাবেন না। সেই পদ না পাওয়ার তীব্র আশঙ্কা ও আক্রোশ থেকেই তিনি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এই নীরব বিদ্রোহ বা মীরজাফরের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।

কাদেরের ক্ষোভ ও সাংবাদিকের দালালি:
এই ষড়যন্ত্রে নানকের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পলাতক থাকা কাদেরকে শেখ হাসিনা দিল্লির এই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানাননি। সেই অপমান ও ক্ষোভ থেকে তিনিও নানকের গুজবের ছকে অংশ নেন।

নানক ও কাদেরের এই বেইমানির মিশনে তল্পিবাহক বা ঘেঁটুপত্র কমলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছেন ঢাকার একটি বাংলা দৈনিকের সাবেক বিশেষ প্রতিনিধি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ভারতে পালিয়ে যাওয়া ওই সাংবাদিক মূলত নানকের নির্দেশে গণমাধ্যমে এই ভিত্তিহীন গুজব ছড়ানোর মূল কারিগরের দায়িত্ব পালন করেন।

দলের চরম দুঃসময়ে পদ-পদবির লোভে দলের প্রধানের সঙ্গেই জাহাঙ্গীর কবির নানকের এই বিশ্বাসঘাতকতা প্রমাণ করে, পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে এখন আর কোনো আদর্শ অবশিষ্ট নেই। নিজেদের পিঠ বাঁচাতে এবং ক্ষমতার লোভে তারা দলের ভেতরেই একে অপরের বিরুদ্ধে মীরজাফরের মতো ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন।

Link copied!