প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:২০ পিএম
চরম জলবায়ু সংকট, আন্তর্জাতিক বাজারে সারের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে বাংলাদেশে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) ও সমন্বিত খাদ্য নিরাপত্তা স্তরবিন্যাস (IPC)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, দেশের প্রায় ১ কোটি ৮১ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য ঝুঁকিতে (IPC Phase 3 বা তদূর্ধ্ব) পড়তে পারে।
মূল কারণসমূহ ও ঝুঁকির চিত্র
পণ্য ও সারের সংকট: মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত জটিলতায় সারের বৈশ্বিক বাজার অস্থিতিশীল হওয়ায় দেশে কৃষি উৎপাদনে প্রভাব পড়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও আবহাওয়া ঝুঁকি: দেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের উপকূলীয় এবং পার্বত্য জেলাগুলো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে খাদ্য নিরাপত্তায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি: নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে নিম্ন ও সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর খাদ্য কেনার ক্ষমতা বা ক্রয়ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও জনগোষ্ঠী
ডব্লিউএফপি-এর তথ্য ও আইপিসি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দেশের পার্বত্য জেলা যেমন—বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি এবং উপকূলীয় ও হাওড় এলাকাগুলোয় খাদ্যাভাবের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া কক্সবাজার ও ভাসানচরের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দারাও মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
দ্রুত সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির (Social Safety Net) আওতা বাড়ানো, কৃষকদের জন্য পর্যাপ্ত বীজ ও সার নিশ্চিত করা এবং সংকট মোকাবিলায় জরুরি খাদ্য মজুত ও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।
