রবিবার ০৯, আগস্ট ২০২৬

রবিবার ০৯, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --

উচ্চশিক্ষায় সমতা, বিসিএসে বৈষম্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৪ পিএম

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন। ফাইল ফটো

বাংলাদেশে শিক্ষাক্ষেত্রে নারীর অগ্রযাত্রা এখন স্পষ্ট ও দৃশ্যমান। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষায় নারী ও পুরুষ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ প্রায় সমতায় পৌঁছেছে। তবে এই সাফল্যের প্রতিফলন দেশের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক সরকারি চাকরির পরীক্ষা বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, উচ্চশিক্ষায় নারীর উপস্থিতি বাড়লেও বিসিএস ক্যাডারে তাঁদের অংশগ্রহণ এখনও তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের ভর্তির হার ছিল ৩৮ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ দশমিক ৪১ শতাংশে। কিন্তু সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) ৪৪তম থেকে ৪৯তম বিসিএসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ক্যাডার হিসেবে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে নারীর হার গড়ে মাত্র ২০ শতাংশের কাছাকাছি।

৪৪তম বিসিএসে প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার নারী আবেদন করলেও সুপারিশ পেয়েছেন মাত্র ৩৩৮ জন, যা মোট সুপারিশপ্রাপ্তদের ২০ দশমিক ১৭ শতাংশ। একইভাবে ৪৫তম বিসিএসে নারী প্রার্থীদের সাফল্যের হার দাঁড়ায় প্রায় ২১ শতাংশে। সবচেয়ে বেশি বৈষম্য দেখা যায় ৪৯তম বিসিএসে, যেখানে ১ লাখ ৩৬ হাজারের বেশি নারী আবেদন করলেও চূড়ান্তভাবে সফল হয়েছেন মাত্র ১১২ জন (১৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ)।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষাক্ষেত্রে নারীর অগ্রগতি সত্ত্বেও কর্মজীবনে প্রবেশের ক্ষেত্রে নানা সামাজিক, পারিবারিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতা তাঁদের পিছিয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা, পারিবারিক দায়িত্ব এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নারীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

“উচ্চশিক্ষা শেষ করার পরপরই অনেক মেধাবী নারী পারিবারিক ও সামাজিক চাপে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন, যা তাঁদের বিসিএসের মতো দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিঘ্ন ঘটায়”

গবেষণায় আরও দেখা যায়, কারিগরি ও প্রকৌশল শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ তুলনামূলক কম—যা বিসিএসের টেকনিক্যাল ক্যাডারে তাঁদের পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ। পাশাপাশি সমাজে নারীর সক্ষমতা নিয়ে প্রচলিত ধ্যানধারণাও বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।

তবে ইতিবাচক দিকও রয়েছে। ৪৮তম বিশেষ বিসিএসে নারীর অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যেখানে নারী প্রার্থীদের সুপারিশের হার ছিল প্রায় ৪১ শতাংশ। এটি প্রমাণ করে, অনুকূল পরিবেশ ও সুযোগ পেলে নারীরাও সমানভাবে সফল হতে পারেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নারীশিক্ষার প্রকৃত সুফল পেতে হলে শুধু শিক্ষায় নয়, কর্মক্ষেত্রেও সমান সুযোগ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনও অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

 

 

Link copied!