প্রকাশিত: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোচিত সাবেক ছাত্রনেতা ফুয়াদ হোসেন শাহাদতের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার ও গুজব ছড়ানো হয়েছিল বলে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফুয়াদকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যেই এক নারী নিজেকে ফুয়াদের স্ত্রী দাবি করে এসব অপপ্রচার চালিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালত ও তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের অভিযোগ এনে ফুয়াদ হোসেন শাহাদত আদালতে একটি নালিশি মামলা (সিআর মামলা নম্বর: ৬১৩/২০২৪, পল্লবী) করেন। মামলাটি তদন্ত করে পিবিআই। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত নারী ফুয়াদ হোসেনের স্ত্রী না হওয়া সত্ত্বেও উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রোপাগান্ডা ও রিউমার ছড়িয়েছেন , যার মূল লক্ষ্য ছিল ফুয়াদের সম্মানহানি করা এবং তাঁকে সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত ওই নারী (ইডেন মহিলা কলেজের সাবেক এক নেত্রী) ২০২৪ সালের ৩ এপ্রিল পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর: ২১৮) করেন যা পরবর্তীতে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন প্রদান করে। তিনি ফুয়াদকে নিজের স্বামী দাবি করেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন। তবে পুলিশের তদন্তে এ অভিযোগের সত্যতা মেলেনি। তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলের আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রতিবেদনে জানান, তাঁরা কখনো ফুয়াদের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করেননি এবং এলাকায় এ সংক্রান্ত কোনো তথ্যপ্রমাণ নেই। তবে তদন্তের ফলাফল আসার আগেই ওই জিডির কপি দেখিয়ে অভিযুক্ত নারী সংবাদ সম্মেলন করেন এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ করান।
পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন মাধ্যমে ওই নারী অভিযোগ তোলেন যে ফুয়াদ তাঁর গর্ভের ভ্রূণ নষ্ট করেছেন। তবে ওই নারীরই দায়ের করা পিটিশন মামলার (মামলা নম্বর: ৭৫/২০২৪, তারিখ: ২৬/০৬/২০২৪) তদন্তেও ভ্রূণ হত্যার কোনো প্রমাণ পায়নি তদন্তকারী সংস্থা। এর পরিপ্রেক্ষিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় ফুয়াদ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান। সার্বিক তথ্য-প্রমাণ ও তদন্ত শেষে ট্রাইব্যুনাল ফুয়াদ হোসেনকে এই মামলা থেকে খালাস দেন।
আইনি নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ওই নারী বিভিন্ন সময়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে ফুয়াদ হোসেনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। একটি নন-জিআর মামলায় তিনি দাবি করেন—তিনি ফুয়াদের বৈধ স্ত্রী এবং বিয়ের যাবতীয় কাগজপত্র ফুয়াদের কাছে রয়েছে। কিন্তু সেই মামলায় সুবিধা করতে না পেরে পরবর্তী সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে করা মামলায় তিনি পুরো উল্টো দাবি করেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, ফুয়াদ তাঁকে ‘বিয়ের প্রতিশ্রুতি’ দিয়ে সম্পর্ক গড়েছেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, রাজনৈতিকভাবে ফুয়াদ হোসেনকে কোণঠাসা ও সম্মানহানি করতে নেপথ্য থেকে মদদ দেওয়া হয়েছিল। বিভিন্ন তথ্য ও তদন্ত সূত্রে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এক প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার প্রভাবশালী ব্যক্তি ফুয়াদকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা জুগিয়েছিলেন।
