প্রকাশিত: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৫৪ এএম
দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশার নিবন্ধন প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। সম্প্রতি আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে নতুন বিধিমালাটি সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হওয়ার পর সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিবন্ধনের বিভিন্ন নিয়ম, ফি ও নির্দেশনা তুলে ধরেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
নিবন্ধন ফি ও নবায়ন:
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী জানান, নতুন বিধিমালা অনুযায়ী চারজন যাত্রী পরিবহনের সুবিধাযুক্ত ই-রিকশার ক্ষেত্রে এককালীন নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার টাকা। প্রথম বছরের পর প্রতি বছর ফিটনেস যাচাই সাপেক্ষে ৫ হাজার টাকা নবায়ন ফি দিয়ে এসব ই-রিকশা সর্বোচ্চ ১২ বছর পর্যন্ত চালানো যাবে। অন্যদিকে, দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ৮ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গতিসীমা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা:
সড়কে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা জোরদারে ই-রিকশার নির্দিষ্ট গতিসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটির জন্য সর্বোচ্চ গতিসীমা থাকবে ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার এবং যানবাহনগুলোতে স্পিডোমিটার থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া রিকশাগুলোতে কিউআর (QR) কোড সংবলিত নম্বরপ্লেট এবং ফিটনেস সনদ প্রদর্শন করতে হবে।
মালিকানা ও পরিচালনা নীতি:
মালিকানার সীমা: একজন ব্যক্তি বা একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫টি ই-রিকশার নিবন্ধন নেওয়া যাবে।
জোনভিত্তিক চলাচল: রাজধানী ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় রিকশা চলাচলে ৪টি করে মোট ৮টি জোন গঠন করা হবে। প্রতিটি জোনের রিকশার জন্য আলাদা রং নির্ধারণ থাকবে।
লাইসেন্স ও নকশা: রিকশাগুলোকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী প্রস্তুত বা সংশোধন করতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে মালিকদের দেওয়া পরিচয়পত্র নিয়ে চালকরা রিকশা চালাতে পারবেন এবং পর্যায়ক্রমে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে।
পৌরসভা এলাকাগুলোতে পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত আইন সংশোধন করে এই বিধিমালা কার্যকর করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
