বৃহস্পতিবার ২৪, সেপ্টেম্বর ২০২৬

বৃহস্পতিবার ২৪, সেপ্টেম্বর ২০২৬ -- : -- --

১ কোটি ৫০ লাখ টাকা না পেয়ে লন্ডনপ্রবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম

প্রতারক চক্র

যুক্তরাজ্যপ্রবাসী নুজহাত সারওয়াত তমার বিরুদ্ধে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগীর অভিযোগ, কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না থাকা সত্ত্বেও চাঁদা না পেয়ে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও পরিকল্পিতভাবে এ মামলা করা হয়েছে। এমনকি মামলা দায়েরের পর দিন হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে দেড় কোটি টাকা চাঁদা দাবি ও পরিবারকে হত্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে।

ঢাকার ৯ নম্বর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে গত ১২ জুলাই মামলাটি (সিআর মামলা নম্বর-৫৮১/২০২৬) দায়ের করেন ধানমন্ডি এলাকার বাসিন্দা সৈয়দা শিনিয়াত নূরী। মামলায় ১ কোটি ৫০ লাখ ৯২ হাজার ৭৬৪ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। 

ভুক্তভোগী নুজহাত সারওয়াত তমা ২০২৪ সাল থেকে পরিবারসহ যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। তিনি সাবেক যুগ্ম সচিব ও কৃষক দলের উপদেষ্টা ডক্টর মো. নূরুল ইসলামের কন্যা। তাঁর মা তেজগাঁও বয়েজ স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষিকা।

চাঁদা দাবি ও হুমকি

নুজহাত সারওয়াত জানান, মামলা দায়েরের পরদিন ১৩ জুলাই একটি নম্বর (০১৩৫৫৯৭২৩২৮) থেকে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে মামলার কপি পাঠিয়ে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে বাংলাদেশে অবস্থানরত তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে গণহত্যাসহ নানা ধরনের মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। 

পরে পুলিশের সহযোগিতায় ওই নম্বরের পরিচয় পাওয়া যায়। দেখা যায়, নম্বরটি হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার শেখ এমদাদুল হক নামে এক ব্যক্তির। 

**ভিসা সংস্থার নাম ও জালিয়াতির অভিযোগ**  
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মামলার বাদী সৈয়দা শিনিয়াত নূরী, তাঁর স্বামী মহীদুদ্দীন আহমেদ, মা তোলাত জিলানী, বোন সৈয়দা সেরা মাহজাবিন ও বোনজামাই নাহিয়ান মাহমুদ দীর্ঘদিন ধরে 'গ্লোবাল ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ভিসা কনসালটেন্সি' এবং 'ইন্টারন্যাশনাল ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্ট' নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করছেন। মো. সোহেল রানা নামের এক ব্যক্তি এই প্রতিষ্ঠান দুটির মালিক হলেও মামলায় তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়নি।

বাদীর বোন সৈয়দা সেরা মাহজাবিন যুক্তরাজ্যভিত্তিক ‘কম কমিউনিটি কেয়ারলাইন সার্ভিসেস মেডওয়ে লিমিটেড’ নামের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। সেখানেও একাধিক মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ওই ঘটনার পর ২০২৫ সালের ৩ অক্টোবর তাঁকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এছাড়া মামলার এজাহারে উল্লেখিত ২ থেকে ৮ নম্বর সাক্ষী—প্রীতি ইসলাম (রাজশাহী), রিফাত হোসাইন (নারায়ণগঞ্জ), মিজানুর রহমান (ভোলা), মিলন মিয়া (মানিকগঞ্জ), রাজন দাস (মৌলভীবাজার), মায়মুনা (চট্টগ্রাম) ও সাবিনা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)—মূলত উক্ত ভিসা কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানের দালাল ও প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন বলে জানা গেছে।

'তদন্ত ছাড়াই পরোয়ানা'

নুজহাত সারওয়াত তমার দাবি, হাতিরঝিল ও রমনা থানায় মামলা দিতে ব্যর্থ হয়ে বাদী আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। কোনো তদন্ত ছাড়াই আদালত মামলাটি গ্রহণ করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। অথচ বাদীর সঙ্গে তাঁর কখনোই কোনো পরিচয় বা আর্থিক লেনদেন ছিল না। 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট বিচারকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এছাড়া গত ২২ জুলাই ঢাকা সিএমএম মোস্তাফিজুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। 

ভুক্তভোগী নুজহাত সারওয়াত তমা জানান, তিনি কোনো ভিসা কনসালটেন্সি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত নন। একটি চক্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে হয়রানি করছে। তিনি পুরো ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

Link copied!