প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম
দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিশাল ছাদগুলোকে কাজে লাগিয়ে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। সম্পূর্ণ বেসরকারি বিনিয়োগে পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষালয়গুলোর বিদ্যুৎ খরচ এক ধাক্কায় অর্ধেকেরও বেশি কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ইউজিসি সূত্রে জানা গেছে, সরকারের কোনো প্রাথমিক বিনিয়োগ ছাড়াই ‘ওপেক্স’ (OPEX - Operational Expenditure) মডেলে প্রথম পর্যায়ে দেশের ৩১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৫২.৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। অবকাঠামো সম্প্রসারণের মাধ্যমে পরবর্তীতে এই উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৬০ মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।
খরচ কমবে অর্ধেকেরও বেশি
বর্তমানে বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের ট্যারিফ (মূল্য) যেখানে প্রায় ১৫ টাকা, সেখানে নতুন এই ওপেক্স মডেলে তা অর্ধেকেরও বেশি কমে মাত্র ৭ থেকে ৭.৫০ টাকায় নেমে আসবে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পরীক্ষামূলকভাবে এই মডেলে প্রতি ইউনিটের ট্যারিফ প্রথমে ৭.৫০ টাকা পাওয়া গেছে এবং প্রকল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে তা ৭ টাকায় নেমে আসে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় শুল্ক, কর ও নীতিগত সহায়তা পাওয়া গেলে এই উৎপাদন ব্যয় ৬.৫০ টাকায় নামিয়ে আনাও সম্ভব হবে।
বিনিয়োগ করবে বেসরকারি খাত
এই বিশেষ মডেলে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের সম্পূর্ণ ব্যয় ও দায়িত্ব থাকবে বেসরকারি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর। ফলে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো অগ্রিম ফান্ডের প্রয়োজন হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুধু তাদের ব্যবহৃত বিদ্যুতের মূল্য পরিশোধ করবে। ইতিমধ্যে ৪৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ১টি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এর সম্ভাব্যতা যাচাই (Feasibility Study) শেষ হয়েছে। এই খাতে বিনিয়োগের জন্য ইতিমধ্যে ১৪টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কারিগরি মূল্যায়ন ও সমীক্ষার কাজে সহযোগিতা করছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (DIU)।
লক্ষ্য ২০৩০: গ্রিডের ওপর চাপ কমবে ২০%
এই মেগা প্রকল্পের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুতের ব্যবহার গড়ে ২০ শতাংশ কমিয়ে আনা। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক বিদ্যুৎ চাহিদা ৫ থেকে ১০ শতাংশ হ্রাস করার আশাবাদও ব্যক্ত করেছে ইউজিসি।
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ জানান, কেন্দ্রীয়ভাবে সঠিক তদারকি ও মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিদ্যুৎ বিলের একটি বড় অংশ সাশ্রয় হবে। একই সাথে জাতীয় পর্যায়ে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর দেশের নির্ভরতাও উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারি ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল বসানোর নির্দেশনার সাথে মিল রেখে গৃহীত এই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগটি দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে একটি যুগান্তকারী, টেকসই ও লাভজনক মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
