প্রকাশিত: ০১ জুলাই ২০২৬, ০১:১৬ এএম
ঢাকা: দেশের আইনজীবীদের শীর্ষ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘বাংলাদেশ বার কাউন্সিল’ পরিচালনার জন্য ১৫ সদস্যের নতুন একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে সরকার। এই কমিটিতে মূলত বিএনপি ও জামায়াতপন্থি শীর্ষ আইনজীবীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
৩০ জুন (মঙ্গলবার) আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত একটি বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা।
কমিটির মেয়াদ ও আইনি ভিত্তি
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২’-এর অনুচ্ছেদ ৮-এর ক্লজ (২) অনুযায়ী অর্পিত ক্ষমতাবলে সরকার এই কমিটি গঠন করেছে। নবগঠিত এই অ্যাডহক বার কাউন্সিল আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত মোট এক বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবে এবং এই সময়ের মধ্যে বার কাউন্সিলের সব ধরনের ক্ষমতা ও কার্যাবলি সম্পাদন করবে।
কমিটিতে যারা আছেন
পদাধিকারবলে এই অ্যাডহক কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন বাংলাদেশের বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
কমিটিতে স্থান পাওয়া সুপ্রিম কোর্টের অন্য শীর্ষ আইনজীবীরা হলেন:
অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন
অ্যাডভোকেট বদরুদ্দোজা বাদল
অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার
অ্যাডভোকেট জসীম উদদীন সরকার
অ্যাডভোকেট এ এইচ এম মুশফিকুর রহমান তুহিন
অ্যাডভোকেট রাগীব রউফ চৌধুরী
অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন অসীম
অ্যাডভোকেট সরকার তাহমিনা বেগম সন্ধ্যা
অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন লিপু
অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির
এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলা আইনজীবী সমিতি থেকে এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন:
অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন চৌধুরী (চট্টগ্রাম জেলা বার)
অ্যাডভোকেট আলী আসগর (বগুড়া জেলা বার)
অ্যাডভোকেট সৈয়দ নজরুল ইসলাম (ঢাকা জেলা বার)
অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান মিলন (সুপ্রিম কোর্ট)
যে কারণে এই নতুন কমিটি
বার কাউন্সিল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ববর্তী নিয়মিত কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন নির্বাচনের লক্ষ্যে ২০২৫ সালের মে মাসে একটি অ্যাডহক কমিটি গঠিত হয়েছিল। সেই কমিটির অধীনে ২০২৬ সালের ১৯ মে সাধারণ সদস্য নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও দেশব্যাপী তীব্র জ্বালানি সংকট ও জেলা বারগুলোর আবেদনের প্রেক্ষিতে নির্বাচনটি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়। এই নির্বাচন স্থগিতের ধারাবাহিকতা এবং আগের কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় সরকার এই নতুন ১৫ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করল।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা আশা করছেন, এই নতুন কমিটি নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে আইনজীবী তালিকাভুক্তির (এনরোলমেন্ট) প্রক্রিয়া এবং বার কাউন্সিলের নিয়মিত সাধারণ নির্বাচন সম্পন্ন করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
